ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাত কিলোমিটার রেলপথ জুড়ে বিপুল সংখ্যক রেল ক্লিপ উধাও হয়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর প্রথম এই সংকটের কথা সামনে এলেও আজ ২৬ মার্চ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। পীরগঞ্জ পৌরসভার ৪৫০ এলাকা থেকে কিলোমিটার পিলার ৪৪৯/২-৬ পর্যন্ত বিস্তৃত এই দীর্ঘ পথে প্রায় ২ হাজার রেল ক্লিপ নেই এবং একটি স্লিপার ভেঙে ঝুলে আছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
চুরি নাকি অবহেলা? ঠাকুরগাঁও জেলার আওতাধীন ‘গ্যাং-৪’ সূত্র স্বীকার করেছে যে, পিলার ৪৪৯/৬ সহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বহু ক্লিপ অনুপস্থিত। তাদের দাবি, এলাকাটি নির্জন হওয়ায় নেশাগ্রস্ত যুবকরা সুযোগ বুঝে ক্লিপগুলো চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। রেলওয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি অরক্ষিত থাকায় লাইনের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তিন মাসেও ফেরেনি নিরাপত্তা: গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গিয়েছিল, দুই মাস পার হলেও ভাঙা স্লিপার বা ক্লিপ প্রতিস্থাপনের কোনো কাজ হয়নি। আজ ২৬ মার্চ, অর্থাৎ আরও এক মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন এভাবে ক্লিপহীন লাইনে ট্রেন চললে যেকোনো মুহূর্তে লাইনচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও বর্তমান চিত্র: এর আগে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী মো. শিপন আলী জানিয়েছিলেন, “একটানা ক্লিপ না থাকলে ঝুঁকি বেশি হতো, তবে কিছু দূর পরপর ক্লিপ থাকায় তাৎক্ষণিক বড় ঝুঁকি নেই।” তিনি দ্রুত পিডব্লিউডি-র মাধ্যমে স্লিপার ও ক্লিপ মজুদের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও সেই ‘দ্রুত ব্যবস্থা’র কোনো বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান নয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বাধীনতা দিবসের মতো বিশেষ দিনে যখন রেলপথে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে, তখন এমন ঝুঁকিপূর্ণ লাইন বজায় রাখা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। পীরগঞ্জবাসী এখন দ্রুত এই রেললাইনের সংস্কার এবং চুরির সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।




