পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের মাঝেই বাংলাদেশ রেলওয়েতে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি তেল (ডিজেল) সংকট। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ডিপোতে ৩০ দিনের তেল মজুত থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অধিকাংশ ডিপোতে তা নেমে এসেছে মাত্র ৭ থেকে ১৫ দিনে। বিশেষ করে রাজধানীর ঢাকা ডিপোতে মজুত আছে মাত্র ৬ দিনের ডিজেল, যা ট্রেন পরিচালনায় বড় ধরনের ঝুঁকির সংকেত দিচ্ছে।
কেন এই সংকট?
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও তাদের বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত তেল সরবরাহ করার কথা থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে তা ব্যাহত হচ্ছে। এর মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া টাকা।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান জানিয়েছেন, রেলওয়ের কাছে তাদের বড় অঙ্কের পাওনা রয়েছে। বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সরবরাহ প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে, যদিও তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন।
ঈদের বাড়তি চাপে তেলের চাহিদা তুঙ্গে
রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুব চৌধুরী জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি দেশজুড়ে অসংখ্য ‘ঈদ স্পেশাল’ ট্রেন চালানো হচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করায় ডিজেলের ব্যবহার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, “মজুত দ্রুত কমতে থাকলে ট্রেন পরিচালনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে আমরা আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।”
ঝুঁকিতে ট্রেন চলাচল
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের সিংহভাগ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ডিজেলচালিত। ফলে জ্বালানি সরবরাহে সামান্য ঘাটতি দেখা দিলেও পুরো দেশের ট্রেন শিডিউল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রেল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব এবং আর্থিক বকেয়াই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। ঈদের এই পিক টাইমে যদি তেলের অভাব দেখা দেয়, তবে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে।




