বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়া আধুনিক দক্ষিণ কোরিয়ান কোচের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের যাত্রীসেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। যাত্রী চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে তুর্না ও মহানগর প্রভাতীসহ মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের কোচ বা রেক পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার (০৯ মার্চ) পূর্বাঞ্চলীয় সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই আদেশ নিশ্চিত করা হয়। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা সর্বশেষ চালানের অত্যাধুনিক রেকগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
যেভাবে সাজানো হচ্ছে নতুন ট্রেনগুলো:
রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোচ পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি একটির পর একটি পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে:
- তুর্না ও মহানগর প্রভাতী (৭৪১/৭০৪): আজ ৯ মার্চ থেকেই এই ট্রেনটিতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক কোরিয়ান কোচ। এর ফলে যাত্রীরা আরও আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
- মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১/৭২২): তুর্না থেকে অবমুক্ত হওয়া রেকগুলো দিয়ে আগামীকাল ১০ মার্চ থেকে মহানগর এক্সপ্রেসের চেহারা বদলে দেওয়া হবে।
- সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস (৮২১/৮২৪): জনপ্রিয় এই ট্রেন দুটিতে এতদিন পুরনো ভ্যাকুয়াম রেক ব্যবহার করা হতো। এখন মহানগর এক্সপ্রেস থেকে অবমুক্ত হওয়া আধুনিক ‘লাল-সবুজ’ পিটি ইনকা কোচগুলো এই রুটে যুক্ত করা হচ্ছে।
পরিবর্তন আসছে আসন সংখ্যায়:
নতুন রেক যুক্ত হওয়ার ফলে ট্রেনগুলোর আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আসছে:
- তুর্না/মহানগর প্রভাতী: রাতে ৭৪১টি এবং দিনে ৭৯৭টি আসন থাকবে।
- মহানগর এক্সপ্রেস: রাতে ৭০৬টি এবং দিনে ৭৩৬টি আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জনপ্রিয়তার পুরস্কার পেল সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস:
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে গত বছর ঈদ স্পেশাল হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এটি নিয়মিত করা হয়। যাত্রীসেবার মান আরও বাড়াতে এখন থেকে ট্রেনটি ইনকা কোচের আধুনিক সুবিধা নিয়ে চলাচল করবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ইতোমধ্যে ইঞ্জিন সরবরাহ, কোচ সার্ভিসিং এবং টিকিট বিক্রিসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্টেশন ম্যানেজারদের বলা হয়েছে যাতে স্থানীয় যাত্রীদের এই পরিবর্তনের বিষয়ে দ্রুত অবহিত করা হয়।




