নিজস্ব প্রতিবেদক, RailXBD | ৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জংশন আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘদিনের অপারেশনাল ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার কারণে ট্রেন চলাচলে নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। এই সংকট সমাধানে এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন সুনামগঞ্জের সচেতন যাত্রী মো: শাহাদাৎ হোসেন।

আখাউড়া স্টেশনের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা

খোলা চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, আখাউড়া স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের একটি লাইন সরাসরি সিলেট লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও অন্য লাইনগুলোর সংযোগ না থাকায় ট্রেন পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়। এর ফলে সিলেট ও চট্টগ্রামগামী ট্রেনগুলোকে আখাউড়া ঢোকার আগে বা পরে গঙ্গাসাগর–আজমপুর সেকশনে প্রায়ই ২০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের ভোগান্তি

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সিলেট–চট্টগ্রাম রুটের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া ৭২৩/৭২৪ উদয়ন এক্সপ্রেস এবং পাহাড়িকা এক্সপ্রেস প্রায়ই বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ঢাকা অভিমুখী ট্রেনগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে এই রুটের ট্রেনগুলোকে অপ্রয়োজনীয় বসিয়ে রাখা হয়। যেহেতু সিলেট–চট্টগ্রাম রুটটি অনেক দীর্ঘ, তাই একবার বিলম্ব হলে তা পরবর্তীতে সমন্বয় করা ট্রেনের ক্রুদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে।

লাগেজ ভ্যান ও অতিরিক্ত কোচের দাবি

যাত্রী শাহাদাৎ হোসেন তাঁর চিঠিতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছেন:

  • লাগেজ ভ্যান সংকট: উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত লাগেজ ভ্যান থাকায় শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া স্টেশনে মালামাল লোড-আনলোডে ১০ থেকে ২০ মিনিট বাড়তি সময় নষ্ট হচ্ছে। এটি যাত্রী ভোগান্তির অন্যতম কারণ।
  • কোচ বৃদ্ধি: বর্তমানে ১৪/২৮ কোচের লোডে চলা এই ট্রেনগুলোতে আরও ২ থেকে ৩টি কোচ সংযুক্ত করলে যাত্রীচাপ অনেকটাই কমবে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রস্তাবিত সমাধানসমূহ:

মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠিতে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে: ১. আখাউড়া স্টেশনের দ্বিতীয় প্ল্যাটফর্মকে দ্রুত সিলেট লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করা। ২. ট্রেন পরিচালনায় সমন্বয় আনা, যাতে পাহাড়িকা বা উদয়ন এক্সপ্রেসকে ঢাকার ট্রেনের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়। ৩. লাগেজ ভ্যান ব্যবস্থাপনা পুনর্বিবেচনা করা (সর্বোচ্চ একটি রাখা বা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া)।

আখাউড়া জংশনের এই সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের। একজন সাধারণ যাত্রীর এই যৌক্তিক দাবিগুলো আমলে নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিলে পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রীর সময় ও ভোগান্তি লাঘব হবে।